Sunday, 30 January 2022

কোলেস্টেরল কমানোর উপায়

কোলেস্টেরল কমানোর ৭টি বিস্ময়কর উপায়ঃ

কোলেস্টেরল


১. এড়িয়ে চলুন ট্রান্স ফ্যাটঃ কোলেস্টেরল কমানোর একটি প্রাকৃতিক উপায় হলো ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারগুলো এড়িয়ে চলা, যেমন—বার্গার, পিৎজা, চিপস ইত্যাদি। ট্রান্স ফ্যাট বাজে কোলেস্টেরল বাড়ার প্রধান কারণ।


২. মুরগির মাংস খানঃ লাল মাংস, যেমন—গরু, খাসি ইত্যাদি বাদ দিয়ে খাদ্যতালিকায় মুরগির মাংস বা লিন মিট রাখুন।


৩. ওটস খানঃ কোলেস্টেরল কমানোর আরেকটি উপায় হলো প্রতিদিন সকালে ওটস খাওয়া। ওটসের মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটি কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করে।


৪. ব্যায়াম করুনঃ প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট ব্যায়াম করুন। পুস আপ, লেগ লিফটস, হিপ রোটেশন ইত্যাদি করতে পারেন।


৫. ফল খানঃ কোলেস্টেরল কমাতে ফল খান। অধিকাংশ ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ। এগুলো শরীর থেকে বাজে কোলেস্টেরল কমায়।


৬. দারুচিনির কফিঃ গবেষণায় বলা হয়, কফিতে দারুচিনি যোগ করলে কোলেস্টেরল কমে। তাই এটিও খেয়ে দেখতে পারেন।


৭. মাছ খানঃ কোলেস্টেরলের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য মাছ খুব উপকারী। তাই খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন।

Saturday, 29 January 2022

ভেরিকোসিল (Varicocele)

ভেরিকোসিল (Varicocele) কি এর লক্ষণ এবং চিকিৎসা 

ভেরিকোসিল (Varicocele)



আমাদের প্রায় সবার মনেই এমন একটা ধারনা কাজ করে যে অন্ডথলিতে একটা কিছু ফুলে উঠাটাই বোধহয় হার্নিয়া, আর হার্নিয়া যদি নাই হয় তবে তো সেটা হাইড্রোসিল হবেই।


আসলে এ দুটোর বাইরে অন্য রোগেও অন্ডথলি ফুলে উঠতে পারে, তেমনই একটা রোগ হলো ভেরিকোসিল (Varicocele)। অন্ডকোষ থেকে যে সকল শিরার মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বড় শিরায় ধাবিত হয় সেই শিরাগুলো বড় হয়ে মোটা হয়ে গিয়েই অন্ডথলিকে ফুলিয়ে তোলে এবং এর নামই ভেরিকোসিল।


যে সকল পুরুষ অধিক কামাশক্ত অথবা যারা অত্যধিক হস্তমৈথুন করে তারা যদি হঠাত এই অভ্যাস ছেড়ে দেয় কিন্তু কাম চিন্তা ত্যাগ করতে না পারলে এপিডিডায়মিসের উপর দিকে স্পার্মাটিক কর্ড এর মধ্যে বীর্য ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়ে উঠে।


 ইহাতে কোষ উপর দিকে আকৃষ্ট হয়, স্ফীত হয় এবং স্পর্শ করলে, দাড়ালে বা হাটাচলা করলে বেদনার উদ্রক হয়। 


লিঙ্গ অর্ধবক্র হয়, এই অবস্থায় কিছুক্ষণ বা কিছুদিন থাকার পর ধীরে ধীরে ঐ স্ফীত ভাব কমে আসে এবং কখনো আবার বৃদ্ধিও পেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ভেরিকোসিলে পরিনত হয়। 


ইহার ফলে পুরুষাঙ্গ কখনো শক্ত ও সোজা হয়, কখনো বা বাকা হয়ে থাকে এবং এটা রাত্রেই বেশি হতে দেখা যায়। ইহাতে রোগী অনেক যন্ত্রনাও ভোগ করে থাকে।

ভেরিকোসিল (Varicocele)



ভেরিকোসিল (Varicocele) এর অত্যন্ত কার্যকরী এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিত্সা রয়েছে। 


একজন ভালো হোমিওপ্যাথ রোগীর সবগুলি লক্ষণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ঔষধ নির্বাচন পূর্বক যথাযথ ট্রিটমেন্ট দিলেই ভেরিকোসিল অনায়সে নির্মূল হয়ে যাবে। 


তবে এই সময় উগ্র মসলা যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। হালকা অথচ পুষ্টিকর খাদ্যই গ্রহণ করা শ্রেয়। কোনো প্রকার মদ্য পান বা উগ্র নেশা করা অনুচিত। সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। রাত্রি জাগরণ এবং অসৎ সঙ্গে মেলামেশা করা আদৌ উচিত নয়।


ভেরিকোসিল কারন ও লক্ষণ :


ভেরিকোসিল (Varicocele) পুরুষের একটি যৌনরোগ।


 এ রোগে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যন্ত্রণা অনুভূত হয় না।


 আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়াবহ যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।


 এক ধরনের টানাহেঁচড়ার মতো ব্যথা কোমর থেকে প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।


 এ ব্যথা হাঁটাচলা করলে, দাঁড়ালে এবং গরমকালে বেশি অনুভূত হয়। 


যেসব পুরুষ বেশি কামাশক্ত বা যারা বেশি হস্তমৈথুন করে, 

তারা যদি হঠাৎ এ অভ্যাস ত্যাগ করে,

 কিন্তু কামচিন্তা ত্যাগ না করে, 

তা হলে এপিডিডায়মিসের ওপর দিকে স্পার্মাটিক কর্ডের মধ্যে বীর্য ক্রমে সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়ে ওঠে।


 এতে কোষ ওপর দিকে আকৃষ্ট হয়, স্ফীত হয় এবং স্পর্শ করলে, দাঁড়ালে বা হাঁটাচলা করলে ব্যথা হয়। 


এ অবস্থায় কিছুক্ষণ বা কিছুদিন থাকার পর ক্রমে ওই স্ফীত ভাব কমে আসে এবং কখনো আবার বৃদ্ধিও পেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ভেরিকোসিলে পরিণত হয়। 


এতে পুরুষাঙ্গ কখনো শক্ত ও সোজা হয়, কখনো বাঁকা হয়ে থাকে এবং এটা রাতে বেশি হতে দেখা যায়।


 এতে রোগী বেশি যন্ত্রণা ভোগ করে।


 ভেরিকোসিল রোগের অত্যন্ত কার্যকরী এবং আরোগ্যকারী হোমিও চিকিৎসা রয়েছে। অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ ডাক্তার রোগীর সব লক্ষণ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করে যথাযথ চিকিৎসা করলে রোগটি নির্মূল হয়ে যাবে। চিকিৎসক এ সময় খাবার-দাবার ব্যাপারেও বিধি-নিষেধ জানিয়ে দেবেন।


ভেরিকোসিল রোগীদের ৯৫ ভাগ বাম পাশ্বে আক্রন্ত হয় আর ৫ ভাগ ডান পাশ্বে আক্রান্ত হয়।


ভেরিকোসিল রোগের লক্ষণ:


অণ্ডকোষে ব্যথা হওয়া (Pain in testicles)

অণ্ডথলিতে চাকা/পিণ্ড (Mass in scrotum)

কুঁচকিতে ব্যথা (Groin pain)

অণ্ডথলি বা অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া (Swelling of scrotum)

বন্ধ্যাত্ব (Infertility)

তলপেটে ব্যথা (Lower abdominal pain)

অনৈচ্ছিক মূত্রত্যাগ (Involuntary urination)

পুরুষত্বহীনতা (Impotence) ত্বকের বৃদ্ধি (Skin growth)

পুরুষাঙ্গে ব্যথা হওয়া (Penis pain)

পায়ুপথে ব্যথা হওয়া (Pain of the anus)

এর প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কি কি ?


ভ্যারিকোসিলে সাধারণত দেখতে পাওয়া লক্ষণ ও উপসর্গগুলি হলঃ

অস্বস্তি সৃষ্টি।

মৃদু ব্যথা।

স্ক্রটামের শিরার বৃদ্ধি বা মচকে যাওয়া।

ব্যথা বিহীন টেস্টিকুলার লাম্প।

স্ক্রটাল ফুলে যাওয়া বা স্ফিত হওয়া।

বন্ধ্যাত্ব।

শুক্রানুর সংখ্যা কম হওয়া।

বিরলভাবে- কোন উপসর্গ দেখা যায় না।

এর প্রধান কারণগুলি :


ভ্যারিকোসিলে প্রধানত শিরার ভাল্বটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য স্পারমেটিক কর্ডের সাথে অল্প রক্ত সঞ্চালিত হয়,যার ফলে শিরাটি ফুলে যায় ও বড় হয়ে যায়। কিডনিতে টিউমারের মতো অবস্থা দেখা দিলেও শিরায় রক্ত প্রাবাহিত হওয়ার সময় বাধা সৃষ্টি হয়।


কিভাবে এর নির্ণয় করা হয়:


চিকিৎসক উপসর্গগুলির সম্পূর্ণ ইতিহাস গ্রহন করেন ও কুঁচকির অঞ্চলটি ভালোভাবে পরীক্ষা করেন, যার মধ্যে রয়েছে স্ক্রটাম এবং টেষ্টিকেল, এবং দেখেন যে স্পারমেটিক কর্ডএ কোনও পাকানো শিরা আছে কিনা। এক্ষত্রে নীচে শুয়ে থাকা অবস্থায়,এটি দেখা যায় না। আবার, পরীক্ষার সময় টেস্টিক্যালের প্রতিটি সাইড আলাদাভাবে দেখা হয় কারণ দুদিকের টেষ্টিকেলের মাপ আলাদা হয়।


ভেরিকোসিল রোগের ডায়াগনোসিস প্যাথলজী পরীক্ষা

Usg of Scrotum


ঔষধ সমূহ:

ফেরাম পিক্রিক, পালসেটিলা, বেলেডোনা, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, এগনাস ক্যাকটাস, একোনাইট ন্যাপ, আর্ণিকা, হ্যামামেলিস, ল্যাকেসিস, নাক্সভম, প্লাম্বাম, রুটা, সালফার, লাইকোপডিয়াম, অ্যাসিড ফস, বেলিসপিরিনিস।

Friday, 28 January 2022

যেসব অভ্যাসের কারণে হারাতে পারেন সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা

যেসব অভ্যাসের কারণে হারাতে পারেন সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা




ইদানীং বেশিরভাগ পুরুষ স্পার্মের পরিমাণ নিয়ে ভুগছেন। স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়ায় অনেক দম্পতি বাবা-মা হতে পারেন না। তবে নিজেরা একটু সচেতন থাকলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এই বিষয়ে অনেক আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। নয়তো ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। আমাদের প্রতিদিনের করা কিছু কাজের মাধ্যমেই আমরা সম্মুখীন হচ্ছি এই বিশাল বিপদের।

পুরুষের এই স্পার্ম কীভাবে কমে যায় তার বেশ কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জার্নাল এনএইচএস-এ। চলুন জেনে নিই সেই কারণগুলো-

ড্রাগ


ড্রাগ অ্যানাবলিক স্টেরয়েড পেশির শক্তি ও বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এতে অণ্ডকোষ সংকুচিত হয়ে যায় এবং স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। অর্থাৎ মাদক গ্রহণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

অ্যালকোহল


অ্যালকোহল পান করার অভ্যাস থাকলে সাবধান হোন। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমায় অ্যালকোহল, যা আপনার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করবে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল পান করেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ধূমপান


টোবাকো মানবদেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর। পাশাপাশি এটা স্পার্ম কাউন্টও কমিয়ে দেয়। এ জন্য আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে হলেও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

ডিপ্রেসন


যদি আপনি ডিপ্রেশনের শিকার হন, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়ার অন্যতম কারণ এটা।

ওজন

ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্পার্ম কাউন্ট কমে যেতে পারে। এ জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

Wednesday, 26 January 2022

শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব

শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা:


এই সমস্যা সাইকোসোমেটিকের কারণে (ভয়, চিন্তা, অপমান, ক্রোধ) অথবা শারীরিক সমস্যা অর্থাৎ মূত্রনালীতে স্ফিঙ্কটার মাংসপেশীর দুর্বলতার জন্য হতে পারে। সঠিক পদ্ধতিতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিছানায় প্রস্রাব করার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

স্নায়বিক উত্তেজনা, ক্রিমি দোষ প্রভৃতির কারনে মূত্রাশয়ের সংরক্ষণ শক্তির হ্রাস পেলে কিছু বেশি বয়সেও শিশু ঘুমন্ত অবস্থায় অসাড়ে বিছানায় প্রস্রাব করে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা:


✅✅ সিনা
✅✅অ্যাসিড ফস
✅✅ক্রিয়োজোট
✅✅স্ট্যাফিসেগ্রিয়া
✅✅পেট্রোসেলিনাম স্যাটিভাম
✅✅ট্যাবেকাম
✅✅ফেরাম ফস


রাতে শিশুকে বিছানা থেকে উঠিয়ে মাঝে মাঝে প্রস্রাব করালে সময় সময় ওষুধ ছাড়াই ভালো হতে দেখা যায়।

শিশু বিছানায় প্রস্রাব করলে করণীয় কি?

যথাযথ ক্রিমি নাশক ওষুধ খাওয়ানো হলে, ঘুমানোর আগে বেশি পরিমাণ পানি পান থেকে বিরত রেখে বা নিয়ন্ত্রণ করে, মূত্রনালীর সংক্রমণ, জননাঙ্গ সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতা ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণের চিকিৎসা করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বি:দ্র: চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া ঔষধ সেবনে হিতের বিপরীত হতে পারে।

শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব


Tuesday, 25 January 2022

ফাইব্রয়েডে

প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন নারী ফাইব্রয়েডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, পেট ব্যথা, কোমরের নিচে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা রকম উপসর্গে ভোগেন।


Monday, 24 January 2022

chocolate cyst

ডিম্বাশয়ের_চকলেট_সিস্ট (chocolate cyst)


আজকাল মেয়েদের অনেকেরই ডিম্বাশয়ে এক ধরনের সিস্ট হয়, যে সিস্ট সম্পর্কে আমাদের সকলের ধারণা অতি সীমিত। সেটি হচ্ছে চকলেট সিস্ট। চকলেট সিস্ট হচ্ছে এক ধরনের এন্ডোমেট্রিয়াল সিস্ট (Endometrial cyst)। এন্ডোমেট্রিওসিস হচ্ছে জরায়ু ব্যতীত অন্য কোথাও এন্ডোমেট্রিয়ামের উপস্থিতি। যখন ডিম্বাশয় আক্রান্ত হয় তখন একে ডিম্বাশয়ের চকলেট সিস্ট বলে। এন্ডোমেট্রিওসিস এর সবচেয়ে কমন জায়গা হচ্ছে এই ডিম্বাশয়। এটি সাধারণত হলে দুই দিকেই হয় অর্থাৎ দুই পাশের ডিম্বাশয় আক্রান্ত হয়।

সাধারণভাবে জরায়ু ব্যতীত এন্ডোমেট্রিয়াম অন্যত্র থাকার কথা নয়। কিন্তু যখন অল্প কিছু এন্ডোমেট্রিয়াল কলা (জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের দিকের কলা) ডিম্বাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়,  রক্তপাত করে ও বেড়ে উঠে  তখন এই রোগ হয়ে থাকে। মাসের পর মাস এভাবে রক্ত ভাঙতে থাকলে এটি এক সময় বাদামি আকার ধারণ করে। যখন এটি ফেটে যায় তখন ভেতরের সব কিছু আশেপাশের অঙ্গ সমুহের (জরায়ু, মুত্র থলি, অন্ত্র) উপর ছিটকে পড়ে।

চকলেট সিস্টের লক্ষণসমুহ


১. কোন লক্ষণ নাও থাকতে পারে (২৫%)।

২. তলপেটে ব্যথা (৫০%) (মাসিকের কিছুদিন আগে থেকে কিন্তু মাসিকের সময়ে বেশি)।

৩. মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত ও বার বার মাসিক হওয়া (৬০%)।

৪. দীর্ঘদিন তলপেটে ব্যথা থাকা।

৫. উদরে ব্যথা।

৬. সন্তান না হওয়া (৪০-৬০%)।

তলপেটের পরীক্ষা করলে পেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পাউচ অফ ডগ্লাসে (Pouch of Douglas) ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এডনেক্সাতে (Ednaxa) একটি অথবা দুটি বিভিন্ন সাইজের সিস্ট বোঝা যায় অনেক সময়।

অন্যান্যঃ প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া, প্রস্রাবে রক্ত আসা, জ্বালা পোড়া হওয়া,পায়খানায় কষ্ট হওয়া ও রক্ত যাওয়া।
Chocolate cyst



কীভাবে নির্ণয় করবেন


১. তলপেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম (ultrasonogram)

২. ট্রান্স ভেজাইনাল সনোগ্রাফি (Trans Vaginal Sonography)।

৩. সিরাম মার্কার সি এ- ১২৫ (Serum Marker CA- 125)।

৪. ল্যাপারোটমি (laparotomy)।

৫. বায়োপসি (Biopsy)।


চকলেট সিস্টের চিকিৎসা
এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা করা হয় ঔষধের মাধ্যমে কিন্তু কাজ না হলে অপারেশন করে কেটে ফেলা হয়। যাদের কোন লক্ষণ থাকে না তাদের ক্ষেত্রে কিছু করার দরকার নেই। একজন কম বয়সী বিবাহিত মেয়ের বিয়ের পরে বাচ্চা ধারণ করলে এমনিতেই এটি সেরে যায়।

হরমোনের মাধ্যমে চিকিৎসা


১. খাবার জন্ম বিরতিকরণ পিল।

২. শুধু প্রোজেস্টেরন (Progesterone)।

৩. গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হরমোন (Gonadotropin-releasing hormone)।

৩. ডানাজল।

অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা


১. সিস্টটি যতটুকু সম্ভব কেটে ফেলা হয়।

২. যদি পরিবার সম্পূর্ণ হয়ে থাকে এবং বয়স চল্লিশের বেশি হয় বা যদি এন্ডোমেট্রিওসিস পেলভিসের (Endometriosis pelvis) সর্বত্র ছড়িয়ে একটা আরেকটার সাথে লেগে থাকে যা ছোটানো কষ্টকর সেক্ষেত্রে জরায়ু সম্পূর্ণরূপে দুই দিকের টিউব ও ডিম্বাশয়সহ কেটে ফেলা হয়।

কী কী জটিলটা দেখা দিতে পারে


 সিস্টটি ফেটে যেতে পারে।

 চকলেট সিস্ট এ ইনফেকশন হয়ে থাকতে পারে।

 অন্ত্রে অবস্ট্রাকশন (Intestinal obstruction) হতে পারে।

 খুব বিরল হলেও ক্যান্সার হতে পারে।

সাধারণত এই রোগটি ৩০-৪৫ বছর বয়সের নারীদের হয়ে থাকে। এদের অধিকাংশেরাই একটি সন্তানও হয় নি এমনটাই দেখা যায় অথবা সিস্টের লক্ষণ দেখা দেওয়ার অনেক আগে একটি বা দুটি বাচ্চা হয়ে থাকতে পারে। এই রোগটি বংশগত হতে পারে।

নারীদের নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হলে নিজের শরীর সম্পর্কেও সঠিক ধারণা থাকতে হবে। সুতরাং, নিজেকে জানুন ও সুস্থ থাকুন।

টনসিলের_চিকিৎসায়_হোমিওপ্যাথি

টনসিল কী?

টনসিল হচ্ছে দুটি লিম্ফনোড।

মুখের পিছনে এবং গলার উপর দিকে অবস্থিত। এর কাজ হল রোগ প্রতিরোধ করা। এরা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুকে বের করে দিয়ে দেহকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। 

টনসিল 


টনসিল এর কাজঃ

এটি শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে. তাদের উদ্দেশ্য সংক্রমণের কবল থেকে দেহকে রক্ষা করা।তারা রক্ষী হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের শ্বসনতন্ত্র বা পাচনতন্ত্র যা আরো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশন সাথে কোন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থামাতে কাজ করে. 


টনসিল হওয়ার কারণঃ 

মাঝে মাঝে এই প্রতিরক্ষা ফাংশন যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন টন্সিল স্ফীত এবং ব্যথা শুরু হয়।এই অবস্থায় টনসিল ফুলে যায়।

অন্যান্য কারণসমূহ

জনাকীর্ণ স্থানে বসবাস, কাজ, এবং অবস্থান করলে

ধূমপানে।

ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে। 


লক্ষণসমূহঃ


গিলতে কষ্ট হয়, কানে ব্যথা, জ্বর এবং ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়া, মাথা ব্যথা, গলায় ক্ষত, চোয়াল এবং গলায় স্পর্শকাতরতা, গলার দুই পাশের গ্রন্থি বা লিম্ফনোড বড় হয়ে যাওয়া, গলায় সাদা বা হলুদ দাগ থাকতে পারে, শিশুদের মধ্যে ক্ষুধামন্দা 

নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা, টনসিল খুব বড় হলে খাবার খেতে বা পান করতে সমস্যা হতে পারে।

পরীক্ষাঃ

* CBC-তে শ্বেত রক্তকণিকা বাড়া প্রকাশ পায়।নিশ্চিত হলে আরো কিছু পরীক্ষা করা লাগতে পারে। 


হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ


হোমিওপ্যাথি টনসিলের জনপ্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিবিসির তথ্য মতে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করেন। 


সহায়ক গুরুত্বপূর্ন ৫টি হোমিওপ্যাথিক ঔষধঃ


1. Hepar Sulph


2. Baryta Carb


3. Belladonna


4. Calcaria Phos


5. Silicea


● বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের  ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোন ওষুধ গ্রহণ করবেন না।

ওভারিয়ান সিস্টের কারণ ও করণীয়

  🎀 ওভারিয়ান সিস্টের কারণ ও করণীয় নারীর ওভারি অথবা ডিম্বাশয়ের সিস্ট সাধারণত যেকোন বয়সের নারীদের হতে পারে।  তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত ৫...