➤লিউকোরিয়া (Leucorrhoea) বা সাদাস্রাবঃ
◑অস্বস্তির অারেক নাম লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব!
মেয়েদের জননেন্দ্রিয়ে স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য যোনিপথে একপ্রকার তরলজাতীয় পদার্থ নির্গত হয়। আর এই তরল জাতীয় পদার্থ যখন কোনো কারনে মাত্রারিক্ত নির্গত হয় তখন তাকে লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব বলে! একে শ্বেতপ্রদর ও বলা হয়!
◑জেনে রাখুন, মেয়েদের যে কোনো বয়সের যে কোনো সময় কম-বেশি সাদাস্রাব হতে পারে।
এটি নারীদের পরিচিত ও সাধারণ একটি সমস্যা। হোমিওপ্যাথি দর্শন অনুযায়ী, এটির সুচিকিৎসা হতে হয়।
◑কারণ এটি কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে অনেক পীড়া এমন কি জরায়ুমুখে প্রথমে ঘা পরে ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করেতে পারে।
☞কারণঃ
◑শ্বেতপ্রদর বা সাদাস্রাবের কমন একটি কারণ হচ্ছে ফাঙ্গাল ইনফেকশন। ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে স্রাব দুধের ছানার মত সাদা চাপ চাপ আকারে বের হয় এবং যোনিতে প্রচণ্ড চুলকানি হয়।
◑শরীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন, হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন, প্রাপ্ত বয়সে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণের সময়, হস্তমৈুন বা মাস্টারবেশন (অভুলেশন), গর্ভাবস্থায়,অনিয়মিত মাসিক, মাসিক একবারে বন্ধ, মাসিকের সময় ঋতুস্রাব কমে গেলে, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত সহবাসের কারনে!
◑অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দুর্বল স্বাস্থ্য, অপুষ্টি, ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাব, রক্তশূন্যতা, কিডনির রোগ, যক্ষ্মা, ক্লোরোসিস, হৃদপিণ্ড বা ফুসফুসের কোনো পীড়ায় রক্ত সঞ্চালনে! পুষ্টিকর ও ভিটামিন জাতীয় খাবারের অভাবেও সাদাস্রাব হয়ে থাকে!
☞লক্ষণঃ
◑পীড়া আরম্ভর পূর্বে কারো কারো প্রথমে কোমড়ে ও কুচকির স্থানে টেনে ধরার মত এক প্রকার ব্যথা, তলপেট ভারী ও প্রস্রাব অল্প পরিমাণে হতে পারে।
◑প্রস্রাবে কোথানী থাকে, তলপেটে চাপ দিলে ব্যথা লাগে, সামান্য জ্বর জ্বর ভাবও থাকতে পারে।এই অবস্থাা প্রকাশ হওয়ার ৩-৪ দিন পরে জরায়ু থেকে স্রাব নির্গত হয়।
◑স্রাব প্রথমে তরল,স্বচ্ছ ও আঠারমত চটচটে থাকে (দেখতে ঠিক ডিমের লালা বা শ্বেতাংশের মত),পরে ক্রমশঃ ঘন ও পুযেঁরমত হয়।
◑প্রথম দিন থেকে ৬-৭ দিনের মধ্যে জ্বর-জ্বর ভাবসহ স্রাবের পরিমাণ কমে গিয়ে সমস্যাটি প্রাকৃতিকভাবেই সেরে যায়।
◑আবার কারো কারো ক্ষেত্রে পীড়াটি দীর্ঘদিন চলতে থাকে।এটি সবুজ, রক্ত মিশ্রিত, চাল ধোয়া পানির মত-হলদে,!
◑হলদে-সবুজ মিশ্রিত,পনিরেরমত, দুধের মত সাদা, ভাতের মারের মত সাদা, কখনো তরল (তরুণ সর্দির মত), কখনো গাঢ় ইত্যাদি প্রকারের স্রাব নির্গত হতে পারে।
◑আবার কিছু স্রাবের কারণে যোনিদ্বার চুলকায়, ঘা হয় ও জ্বালা করে। এই স্রাব মাসিক হওয়ার পূর্বে ও পরে বা যে কোনও সময় হতে পারে।
◑যৌনসংক্রামক রোগ বা জীবাণু সংক্রমণের দ্বারা সাদাস্রাব হলে তার প্রাথমিক প্রধাণ লক্ষণ হচ্ছে,
অতিরিক্ত পরিমাণে সাদাস্রাব হওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া এবং যৌনাঙ্গে চুলকানি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেওয়া।
✅হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এই রোগ ভালো হয়।
◑লিউকোরিয়াতে ব্যবহৃত কিছু হোমিও ঔষধঃ
•Sepia,
•Kreosote
•Alumina
•Borax
•pulsatilla
•platina
•Ammon Carb
🚫ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করবেন না।❌
| Leucorrhoea বা সাদাস্রাব |